সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ এর আদ্যোপান্ত



সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, নাম শুনলেই কেমন যেনো বিদেশ বিদেশ লাগে,নামটা ঠিক আমাদের দেশীয় নয় এর যথেষ্ট কারন ও রয়েছে। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দল এই দ্বীপকে ব্রিটিশ-ভারতের অংশ হিসাবে গ্রহণ করে। জরীপে এরা স্থানীয় নামের পরিবর্তে খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে সেন্ট মার্টিন নাম প্রদান করে। এরপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের বাইরের মানুষের কাছে, দ্বীপটি সেন্ট মার্টিন নামেই পরিচিত লাভ করে । দ্বীপে প্রচুর নারকেল গাছ থাকায় দ্বিপের স্থানীয় নাম একসময় নারিকেল জিঞ্জিরা ছিল । "জিঞ্জিরা" আরবি শব্দ , জিন মানে জীন - পরি এবং জাজিরা মানে দ্বীপ। কথিত আছে , জীন জাতিরা একসময় এই দ্বীপে বিশ্রাম নিতেন । নামকরকরণ যাই হোক এই দ্বীপের সৌন্দর্য অতুলনীয় সে বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই।যারা কয়েক যুগ আগে গিয়েছেন তারা নাকি আরো অনেক বেশী সুন্দর দেখেছেন কিন্তু আমরা এখনো যতটুকু দেখতে পাই আমাদের দেশের তুলনায় সেই বা কম কিসে?

দ্বীপের প্রতিটি অংশে পেয়েছি সৌন্দর্য। সৌন্দর্য উপভোগ করেছি কোলাহলহীনতায়, নির্জনতায়, সাগরের গর্জনে, নীলাভ সবুজ পানিতে, ঝিরঝির কিংবা রাতের ঝোড়ো বাতাসে। মুগ্ধ করেছে স্থানীয় মানুষদের ভালোবাসা। সবচেয়ে ভালো লেগেছে দ্বীপের নতুন প্রজন্মের শিশুদের। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

পতেঙ্গা, কক্সবাজারের সুগন্ধা, লাবনী, কলাতলী বিচের বালুময় অস্বচ্ছ পানি দেখে অনেকে নীল পানির খোঁজে সেন্ট মার্টিন আসে। কেউবা আসে দেশের সর্ব দক্ষিনের শেষ প্রবালটিতে বসে ছবি তুলতে, সমুদ্রের গর্জন শুনতে। কেউ আসে নদী-সাগর পেরিয়ে দ্বীপটিতে কি রহস্য আছে তার সন্ধান করতে।

এই দ্বীপের আয়তন ১০-১৫ বর্গকিলোমিটার। হেঁটে পুরো দ্বীপ ঘুরতে চাইলে হাঁটতে হবে ১১/১২ কিলোমিটারের বেশি। এবং যে পুরো দ্বীপটি হেঁটে না ঘুরবে সে প্রকৃত অর্থে সেন্টমার্টিনের আসল সৌন্দর্যই যেন দেখলো না।

দ্বীপের উত্তর পাশে নারিকেল জিঞ্জিরা। মাঝে দ্বীপের সবচেয়ে সরু স্থান গলাচিপ যেখানে পূর্ব এবং পশ্চিম দুই পাশের সমুদ্রের গর্জন শোনা যায়। এবং সর্ব দক্ষিনে ছেড়াদিয়া বা ছেঁড়াদ্বীপ।

জেটি থেকে নেমে হাতের বামে বিচ ধরে হেঁটে গেলে দেখা যাবে সমুদ্রের এক ধরনের রূপ। এপাশ দিয়ে ভাটার সময় হাঁটতে থাকলে ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যায়। সাগর তুলনামূলক শান্ত থাকে পূর্বপাশের এদিকটাতে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

জেটির ডান পাশের বিচে মূলত সবাই গোসল করতে নামে। বাজারের আশেপাশের রিসোর্টে যারা থাকে তারাও এই বিচের আশেপাশেই ঘোরাঘুরি করে। এই বিচ ধরে পশ্চিম দিকে যেতে থাকলে কেন দ্বীপের নাম 'নারিকেল জিঞ্জিরা' তার সত্যতা মিলবে।

কোরাল দ্বীপ নামের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যেতে হবে পশ্চিম বিচে। ভাটার সময় পশ্চিম বিচ ধরে যত ছেঁড়াদ্বীপের দিকে হাঁটা যায় তত বাহারী কোরালের দেখা মিলবে। বিশালাকার, ক্ষুদ্রাকৃতি, অদ্ভুতাকার, বিস্ময়কর কি নেই এখানে।

গলাচিপা। সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সরু অংশ। পূর্ব বা পশ্চিম যেদিকের বিচ ধরেই যান গলাচিপায় আসলে আপনি অবাক হতে বাধ্য। কেন তা নিজেরা গিয়েই আবিষ্কার করুন! সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

ছেঁড়াদ্বীপ হেঁটে বা সাইকেলে গেলে যে অংশটা জোয়ারের সময় ডুবে যায় তার ঠিক আগে আগে ম্যানগ্রোভ বনের দেখা মিলবে যেন। দ্বীপের কি রূপ দেখলেন আর এখানে এসে কি দেখতেছেন! নিজের চোখকে বিশ্বাস হতে চাইবে না।

ছেঁড়াদ্বীপ অংশটুকু আরেক বিস্ময়। এখানের প্রবালগুলোকে আমার কাছে বেশি প্রানবন্ত মনে হয়। ছেঁড়াদ্বীপের পশ্চিম পাশের বিচ দেখা পাবেন প্রাকৃতিক একুরিয়ামের। অদ্ভুত এক গাছ রয়েছে কেওড়ার বনে। খুঁজে দেখবেন অবশ্যই। দিনের বেলাতেও গাঁ ছম ছম অনুভূতি হয় সেখানে।ছেঁড়াদ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, শেষ মাথায় বসে সমুদ্রের ঢেঊ দেখতে, ঢেঊয়ের গর্জন শুনতে অসাধারন লাগে। মূল দ্বীপ থেকে যা সম্পূর্ণ আলাদা। অন্তত আমার কাছে তা মনে হয়। আর যারা প্রচুর ছবি তুলতে পছন্দ করেন তাদের জন্যও ছেঁড়াদ্বীপ স্বর্গ। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

 কি কি দেখার আছেঃ

১।উত্তর পাশের নারিকেল জিঞ্জিরা (জেটি থেকে বাম পাশের বিচ ধরে হাঁটলেই পাবেন)

২।পশ্চিম পাশের কোরাল দ্বীপ

৩।জেটি ঘাট (সকালে সমুদ্রের পানির রঙ থেকে অবাক হয়ে যাবেন। আর রাতে জেটির সিঁড়িতে বসে সমুদ্রের গর্জন শুনে)

৪।গলাচিপা

৫।ছেঁড়াদ্বীপ

৬।পশ্চিম বিচে বসে সূর্যাস্ত

৭।জেটিঘাটে বসে সূর্যোদয় ও ঘাটের নিচে লাইভ একুরিয়াম

৮।রাতের পরিষ্কার আকাশে লক্ষ লক্ষ তারা

৯।সমুদ্র বিলাস (হূমায়ুন আহমেদের বাড়ি) 
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

১০।বিকালে জেটির বাম পাশের বিচে জেলেদের জাল টেনে মাছ ধরা

১১।বাজার থেকে পাকা রাস্তা ধরে হেঁটে অবকাশ হোটেল পর্যন্ত স্থানীয়দের বাসস্থান, জীবন যাত্রা , মাছ ধরা

১২।সন্ধ্যা/রাতে বাজার 

১৩/ভোরে বাজারে সামুদ্রিক মাছের পসরা

কি কি করার আছেঃ

১।সাইকেল চালানো , বাইক চালানো

২।হেঁটে/স্পিডবোট/মাছ ধরার ট্রলার/লাইফবোটে ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়া

৩।নানা ধরনের মাছের বার বি কিউ খাওয়া

৪।খুব ভোরে উঠে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনা

৫।বিকেলে জেলেদের সাথে জাল টেনে মাছ ধরা (ভাগ্য ভালো হলে ফ্রি মাছও পেয়ে যেতে পারেন)

৬।ক্যাম্প ফায়ার করা (রিসোর্ট এর নিকটবর্তী , সমুদ্র থেকে দূরে) 
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

৭।স্কুবা ড্রাইভিং করা (চালু হয়নি এখনো)

৮।ফানুশ / ফ্লেয়ার উড়ানো (আতশবাজি বহন এবং ফুটাবেন না ,সীমিত পরিসরে ছোট ফানুশ উড়াতে পারেন)

কি কি খাওয়ার আছেঃ

১।মাছের বারবিকিউ (বাজারে সব হোটেলেই মাছ সাজিয়ে রাখা হয় যেটা বলবেন বারবিকিউ করে দিবে) দরদাম করে নিবেন।

২।জেটি থেকে বাজারের রাস্তা ধরে শেষ মাথায় হাতের বামে পেয়াজু,সিঙ্গারা, সমুচার দোকান আছে। ওদের পেয়াজু। সন্ধ্যা ৭.৩০ মধ্যেই শেষ হয়ে যায় তাই আগে আগে যাবেন।

৩।চিংড়ি, ক্র্যাব ফ্রাই

সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়ঃ


সেন্ট মার্টিন মানুষ কয়েকভাবে যায়। কেউ শুধু সেন্টমার্টিন, কেউ সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার মিলিয়ে। সবগুলো উপায়ই বলছি।

শুধু সেন্টমার্টিনঃ

ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল ৯.৩০ টার জাহাজে করে সেন্টমার্টিন। জাহাজ ঘাটের নাম দমদম যা শহর থেকে ১০ কিলো আগে । যারা ট্রলার / স্পিডবোট এ যাবেন তারা টেকনাফ বাস স্ট্যান্ড নেমে ঘাটে গেলেই পেয়ে যাবেন । স্পিডবোটের অনুমতি নেই (কিছুদিন আগে ডুবে যাওয়ার ঘটনায়) তবুও দুই একটা চলাচল করে । স্পিডবোটে ভাড়া ৪৫০ - ৮০০ (সিন্ডিকেট) । ট্রলার ৩২০ । এছাড়া কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস এর ডিরেক্ট সার্ভিস ইতোমধ্যে সবাই জানেন। সেন্টমার্টিনে যতদিন ইচ্ছা থেকে আবার বিকাল ৩টার জাহাজে করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাসে করে নিজ নিজ বাসস্থান। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ  

সেন্টমার্টিন-কক্সবাজারঃ

ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সয়াক্ল ৯.৩০টার জাহাজে করে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন যতদিন ইচ্ছা থেকে আবার বিকাল ৩টার জাহাজে করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাস/রিজার্ভ মাইক্রোতে বা সি এন জি তে করে রাতেই কক্সবাজার। কক্সবাজার যতদিন ইচ্ছা থেকে বাসে করে নিজ নিজ বাসস্থান।

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনঃ


ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে কক্সবাজার। কক্সবাজার যতদিন ইচ্ছা থেকে খুব ভোরে টেকনাফের বাস, রিজার্ভ মাইক্রো/জীপ/সিএনজি করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল ৯.৩০এর জাহাজে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন যতদিন ইচ্ছা থেকে আবার বিকাল ৩টার জাহাজে চড়ে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাসে করে নিজ নিজ বাসস্থান।

চট্টগ্রাম - সেন্টমাটিনঃ


নিউমার্কেট সংলগ্ন সিনেমা প্যালেস থেকে রাত ১২ - ২ টা পর্যন্ত টেকনাফ গামী অনেক বাস পাওয়া যায় । ভাড়া ৪০০ /

কিছু সতর্কতাঃ


১।টেকনাফ জাহাজ ৯.৩০ টার সময় সব একসাথে ছেড়ে যায়। শুধু গ্রীন লাইন ১০ টায় ছাড়ে। তাই জাহাজ মিস করলে ঐদিন আর জাহাজ পাবেন না।

২।জাহাজ মিস করলে ট্রলারে যেতে পারেন। (যারা রোদ সহ্য করতে পারেন না , মাথা ধরা , বমি , মোশন সিকনেস জনিত প্রব্লেম আছে তারা না যাওয়ার চেষ্টা করবেন।) 
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

৩।সেন্টমার্টিন থেকে সব জাহাজ বিকাল ৩টায় ছেড়ে দেয়। শুধু গ্রীন লাইন কিছুটা দেরি করে। তাই এখানেও জাহাজ মিস করলে ঐদিন আর জাহাজ পাবেন না। এবং ট্রলারও পাবেন না। সেদিন সেন্টমার্টিনেই থাকতে হবে। এছাড়া প্রায় সকল হোটেল - রিসোর্ট এ চেক আউট সময় সকাল ১১ টা , তবে আপনার মালপত্র অফিসে রাখতে পারবেন জাহাজে উঠার আগ পর্যন্ত।

ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়ার উপায়ঃ


১। ভাটার সময় হেঁটে/সাইকেলে (সাইকেল ঘণ্টা প্রতি ৩০ - ৫০ টাকা) সাইকেল নিয়ে গেলে এনার্জি + কাঁধে নিয়ে হাঁটার মানসিকতা রাখবেন।

২।জেটি ঘাট থেকে প্যাকেজে (২০০ টাকা)

যেতে ৩০ মিনিট, আসতে ৩০ মিনিট আর ঘোরার সময় ১ ঘন্টা

৩।মাছ ধরার ট্রলার রিজার্ভ করে 
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

লোক ভেদে ভাড়া ১৫০০-২৫০০ নিবে। যতক্ষন ইচ্ছা থাকবেন।

৪।বাইক ভাড়া ঘণ্টায় ৫০০

হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপঃ


হেঁটে যেতে দেড়-দুই ঘন্টা লাগে যদি পশ্চিম বিচ ধরে যান। আমি এটাই সাজেস্ট করবো। এপাশ দিয়ে যাওয়াটা একটু কষ্টকর কিন্তু যাওয়াটা বৃথা হবে না।

আরামে এবং দ্রুত যেতে চাইলে পূর্ব বিচ ধরে যাবেন।

জোয়ারের সময় পরিবর্তন হয়। তাই যেদিন যাবেন স্থানীয় লোক বা রিসোর্টের ম্যানেজারের জাছে জিজ্ঞাসা করে নিবেন।

আসার সময় ট্রলার পাওয়া যাবে না। সবাই রিজার্ভ ট্রলার নিয়ে যায়। যদি কাউকে অনুরোধ করে উঠতে পারেন তাহলে হয়তো পেতে পারেন। বা বাইকে ফিরতে পারবেন অথবা ভিতরে এসে ভ্যানগাড়ি 
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

হেঁটে যেতে, পশ্চিম বিচ দিয়ে যাবেন (কোরালের কারনে পুরো যেতে পারবেন না শেষে, তখন সাইডের রাস্তায় উঠবেন) ফেরার সময় পূর্ব বিচ দিয়ে আসবেন তাহলে ভালো মত দেখতে পারবেন।

আমার অভিজ্ঞতা ও কিছু পরামর্শ 

দ্বিতীয়বারের মতো যাওয়া কিন্ত , এবার সম্পূর্ণ একা এবং ট্রলারে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বের হয়েছিলাম । আমার তেমন বন্ধু নেই এবং একজন সলো ট্রাভেলার। একা ভ্রমণ মানেই নিজের জন্য বিনিয়োগ।সকাল ৭ টায় টেকনাফ বাস স্ট্যান্ড পৌঁছেছিলাম ।ট্রলার ঘাটের আগে হোটেল কস্তুরি তে খাবার খেয়ে নেই (ওয়াশরুম আছে) ট্রলার সকাল ১০ / ২ টায় ছেড়ে যায় (মাসিক নাফ নদীর জোয়ার টাইমিং এর উপর নির্ভরশীল) । যদি ট্রলার ২ টায় ছাড়ে তাহলে সেদিন আপনি সিএনজি নিয়ে ইনানী বীচ সহ আশপাশ ঘুরে আসতে পারেন। ট্রলার গুলো অনেক লোড নেয় যা আপনার ভয় এক ধাপ বাড়িয়ে দিতে পারে । টুরিস্ট পরিচয়ে আপনি লাইফ জ্যাকেট নিয়ে সুবিধামতো যায়গায় বসে যেতে পারেন । অবশ্যই ছাতা , টুপি এবং সান্সক্রিম এর প্রপার ইউজ করবেন না হলে ঢাকায় ফিরে নিজেকে চিনতে পারবেন না । আমার ট্রলার ৩ টায় ছেড়ে দ্বীপে পৌঁছায় একদম সন্ধায় । ও হ্যাঁ, সীমান্তবর্তী ও অপরাধ প্রবন এলাকা হওয়ায় সড়ক ও নৌ পথে দফায় দফায় বিভিন্ন বাহিনীর তল্লাশি আছে তাই আপনার পেশাগত প্রমানের সবকিছু হাতের কাছে রাখবেন। জেটি ঘাটে নেমে আমি ৩০ মিনিট হাঁটতে হাঁটতে হোটেল সন্ধান করে চেক ইন করি এবং দ্বিতীয় দিন অন্য আরেকটিতে উঠি । টুরিস্ট চাপ যখন থাকে তখন ভাড়া একটু বেশি থাকে তাই চেষ্টা করবেন বুকিং দিয়ে যেতে বা মনের এনার্জি থাকলে হেঁটে হেঁটে দেখলে মনের মতো রুম কমে পেয়ে যাবেন এক্ষেত্রে যদি পরিবার বা বন্ধুবান্ধবী দল নিয়ে যান তাহলে একজন ঠিক করে পরে বাকিদের ভ্যানে আসতে বলতে পারেন । ভ্যান ভাড়া অবশ্যই দরদাম করে নিবেন , উল্টা - পাল্টা চেয়ে বসে । খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বাজারে ভালো ডেকোরেশন এবং বড় হোটেল এ বসার চেষ্টা করবেন বা নিজের রিসোর্ট থেকেই অর্ডার করে নেয়া ভালো (যদি থাকে) সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ  । কারন আপনি যদি পশ্চিম বীচের হোটেল গুলোতে থাকেন তাহলে দেখবেন বাজারে আসাটা একটু দূরের। বাজারের হোটেল গুলো থেকে মাছ ভাজা বা বারবিকিউ এর ক্ষেত্রে অবশ্যই অগ্রিম মশলা মাখানো মাছ এভইড করবেন । নিজে দরদাম করে হাতে নিয়ে তারপর মশলা মাখিয়ে বাকি প্রসেসিং এ যেতে বলবেন । কারন , বেশির ভাগ হোটেলেই অনেক দিনের ফ্রিজিং মাছ পরিবেশন করা হয় যা আপনার ভালো লাগতে নাও পারে । কিছু হোটেল তেলাপিয়াকে কোরাল বলে চালিয়ে দেয় । এখন যেমন ২২ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা বন্ধ , শুনেছি চিটগং থেকে তেলাপিয়া যায় । পরেরদিন ভোর ৫ টায় বের হয়ে হেঁটে হেঁটে ছেড়াদিপে গিয়েছিলাম , সময় লেগেছিল ২ ঘণ্টা । বলতে পারেন জীবনের অন্যতম থ্রিল হাইকিং । সকাল ১০ টা নাগাদ জোয়ার এর পানি কমে (নির্ভরশীল) তখন হেঁটে বা নৌকায় পার হতে পারবেন। ফেরার সময় হেঁটে বা বাইকে চড়ে আসতে পারেন , দ্বীপে এখন আশংকাজনক হারে বাইক বৃদ্ধি পেয়েছে । জীবনে একবার হলেও পূর্ণিমায় একটি রাত দ্বীপে কাটানোর পরামর্শ থাকবে । সকাল ১০ টায় টেকনাফের উদ্দেশে ঘাট থেকে ট্রলার ছেড়ে যায় । প্রচণ্ড গরম থাকায় আমি শাহ্‌পরীর দ্বীপ নেমে যাই এবং সেখান থেকে সিএনজি করে টেকনাফ ও মেরিনড্রাইভ...

BackPackers Route Plan :

Dhaka-Chittagong (Mail Train) , Chittagong-Coxs Bazar (Bus) ,Cox-Teknaf (Cng) ,Teknaf To Saint Martin (Trawler)

কি কি জাহাজ যায়ঃ

MV Karnaphuli Express (এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস)

কক্সবাজার বি আই ডব্লিও টি এ ঘাট থেকে ছাড়ে সকাল: ৭.০০ মিনিটে। সেন্টমারটিন থেকে বিকাল: ৩.৩০ মিনিটে। উভয় দিক থেকে গন্তব্যে পৌছুতে সময় লাগে ৫ ঘন্টা (+,-)

১।কেয়ারী সিন্দাবাদ

মেইন ডেক (নিচতলা) -৫৫০

ওপেন ডেক (দোতলা) -৭০০

ব্রিজ ডেক (দোতলা) - ৮০০

২।কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন

পার্ল লাউঞ্জ (দোতলা) - ১৪০০

কোরাল লাউঞ্জ (নিচতলা) - ১০০০

এক্সক্লুসিভ লাউঞ্জ - ১০০০ 
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

এই জাহাজটা এসি। সবার পড়ে পৌছায়। এসিও ভালো না। অন্য জাহাজের টিকেট পেলে এটা নেওয়ার দরকার নেই।

৩।বে ক্রুজ

রজনীগন্ধা - ১৩০০

হাসনা হেনা - ১৪০০

কৃষ্ণচূড়া - ১৬০০

৪।গ্রীন লাইন

৫।এলসিটি কুতুবদিয়া

ভাড়া ৫৫০-১১০০

৬।এলসিটি কাজল

ভাড়া ৫৫০-১১০০

কি কি বাস যায়ঃ

সৌদিয়া,হানিফ, শ্যামলী, সেন্টমার্টিন পরিবহন, সেন্টমার্টিন ট্রাভলস, গ্রীন সেন্টমার্টিন, রিলাক্স সহ আরো বেশ কিছু বাস।

ভাড়াঃ

নন-এসিঃ ৯০০

এসিঃ ১৫০০-২৩৫০ পর্যন্ত (গাড়িভেদে)

বিশেষ পরামর্শঃ

১।প্রবাল নিয়ে আসবেন না। ১ জন মানূষ ১টা করে প্রবাল আনলেও ১ লাখ মানুষ ১ লাখ প্রবাল নিয়ে আসবে। সিজনে কয়েক লাখ মানুষ সেন্টমার্টিনে যায়!

২।যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। দ্বীপটি আমাদের। ময়লা ফেলে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।

৩।স্থানীয়দের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। 
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ 

৪।ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারীতে ছুটির দিনগুলোর জন্য ১৫-২০ দিন আগে থেকে শিপ, বাস, হোটেল বুকিং দিয়ে রাখবেন। ডিসেম্বরের ছুটির দিনে অনেক রিসোর্ট ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে।

ভ্রমণ উপভোগের বিলাসিতার নয় , নিরাপদ হোক আপনার ভ্রমণ

 নিচের সোশ্যাল মিডিয়া আইকন গুলোতে ক্লিক করে শেয়ার করুন। প্লিজ এভাবে আমাদের সাপোর্ট করুন।